Oops! It appears that you have disabled your Javascript. In order for you to see this page as it is meant to appear, we ask that you please re-enable your Javascript!

ভিডিও: নায়িকা বনশ্রী জীবনী । সোহরাব রুস্তমের নায়িকা থাকেন বস্তিতে, করেন হকারি!

মাদারীপুরের শিবচরে জন্ম নেয়া নায়িকা বনশ্রী বড় হয়েছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে। তার আসল নাম সাহিনা আক্তার । তিনি পড়েছেন বেগম নূরজাহান বালিকা বিদ্যালয়ে । অসম্ভব সুন্দর চেহারার এই নায়িকা ছোটবেলা থেকেই ছিলেন গানের প্রতি বিশেষ আগ্রহী। আর নায়িকা হবার স্বপ্ন তিনি ধারন করতেন হৃদয়ে।

১৯৯৩ সালে শ্যামল কুমার কণ্ঠ নামের বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এক ছেলের সাথে মাত্র তের বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় বনশ্রীর। বিয়ের পর তার স্বামী মুসলমান হন ও নাম বদলে রাখেন মাসুদ চৌধুরী।

দর্শক ভিডিওতে দেখুন নায়িকা বনশ্রীর পূর্ণ জীবনী ও বর্তমান জীবনঃ

স্বামীর সম্মতিতেই বনশ্রি নায়িকা হবার জন্য বিএফডিসিতে বারবার যাওয়া আসা করতে থাকেন। তখনই তার পরিচয় হয় এফটি প্রোডাকশনের মালিক মোহম্মদ ফারুক ঠাকুরের সঙ্গে। ঠাকুর নায়িকা হিসেবে তার ছবিতে বনশ্রিকে পছন্দ করলেও বিয়ের খবরে কিছুটা মনক্ষুণ্ণ হন। তিনি বনশ্রি কে পরামর্শ দেন বিয়ের ব্যপারটা একেবারে গোপন রাখতে। সব কিছু গোপন রেখেই সোহরাব রুস্তমের মত বিগ বাজেটের ছবিতে চুক্তি বদ্ধ হন বনশ্রি। কিন্তু অন্তসত্তা হওয়ায় বনশ্রীকে নিয়ে তখনই শুটিং করানো সম্ভব হয় নি। যদিও বনশ্রি পেটের সন্তান টি ফেলে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু ডাক্তার এর বারন থাকায় সেটি আর করতে পারেন নি। শ্রাবন্তি শ্যামল বৃষ্টি নামের ফুট ফুটে কন্যা জন্মের পরপরই তিনি শুটিং শুরু করে দেন। সিনেমায় তার নায়ক ছিলেন ইলিয়াস কাঞ্চন।

ছবিটি রিলিজ পাওয়ার আগেই বনশ্রীর নাচ , গান আর অভিনয় এর তারিফ শুরু হয়ে যায়। দিকে দিকে ছড়িয়ে পরে তার নাম ডাক। নামী দামি পরিচালকরা তাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে চায়। কিন্তু ঠাকুরের পরামর্শে তিনি শুধুমাত্র এফটি প্রডাকশনের সাথেই চুক্তিবদ্ধ থাকেন। সেই সাথে এফটি প্রডাকশনের ‘নিষ্ঠুর দুনিয়া’ ছবির মাধ্যমে ঠাকুরের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনার কাজ শুরু করেন। সেখানে বহু টাকা লগ্নি ও করেন বনশ্রি। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই নায়িকা বনশ্রির জীবনে নেমে আসে কাল বৈশাখীর ঝড়। ঠাকুরের দেয়া গুলশানের বাড়িতে থাকতে শুরু করেছিলেন বনশ্রি। কারন সেখানে বডি ফিট রাখার জন্য সুইমিং পুল, জিম সবই ছিল। তবে বাড়িটি নিয়ে ঝামেলায় ছিলেন ঠাকুর। সেই ঝামেলায় খুন হয় একজন আর সেই খুনের প্রধান আসামি ঠাকুর। ফলে বন্ধ হয়ে যায় নিষ্ঠুর দুনিয়া। ৮০ ভাগ কাজ করতে যেয়ে অনেক টাকা ব্যয় করেছিলেন তিনি। যা তিনি কোনদিন ও ফিরে পান নি। মিডিয়ায় ঠাকুর আর বনশ্রীকে জড়িয়ে নোংরা প্রতিবেদন এর ফলাফল স্বরূপ আর কেউ বনশ্রিকে নায়িকা হিসেবে নেন নি। এক সময়ের জনপ্রিয় নায়িকাকে তাই দারে দারে ঘুরতে হয় কাজের জন্য। বাবা মা ভাই বোন স্বামী সন্তান সবাই মুখ ফিরিয়ে নেন তার থেকে। বাধ্য হয়ে আবার বিয়ে করেন। জন্ম নেয় একটা ফুট ফুটে সন্তান। আর সেই সন্তানকে ফেলে বনশ্রীর স্বামী চলে যান। ছোট শিশুর দেখ ভাল আর নিজের খাবারের যোগান মেটাতে শেষ পর্যন্ত রাস্তায় হকারি করতে নামতে হয় এক সময়ের জনপ্রিয় এই নায়িকাকে।

SEE:  ব্রেকিং ভিডিওঃ অপু বিশ্বাস এর গর্ভে শাকিব খান এর সন্তান । নভেম্বরে খুশির খবর

নায়িকা-বনশ্রী

তবে ভাগ্য সু প্রসন্ন হওয়ায় মিডিয়ার চোখে চলে আসে ব্যাপারটি আর তাতে করে সরকারের হস্তক্ষেপে প্রধান মন্ত্রীর ত্রান তহবিল থেকে মিলে যায় ২০ লক্ষ টাকা। সেই টাকা সঞ্চয়ী হিসাবে রেখে প্রতি মাসে মিলে যাচ্ছে ২১ হাজার টাকা। ফলে অনেকটাই নিজেকে সামলে নিয়েছেন তিনি।
এখন আর আগের মত দৈন্য দশায় নেই বনশ্রী। জানালেন নতুন বাসায় উঠবেন। আর কেউ যদি তাকে কোন সিনেমায় কাজ দেয় তাহলে সানন্দ্যে করবেন তিনি। তবে কেউ এরকম পদক্ষেপ নিয়ে আবার বনশ্রীকে সিনেমার সাথে সম্পৃক্ত করবেন কিনা তা এখনও পরিষ্কার নয়।
প্রিয় দর্শক নায়িকা বনশ্রীর জীবন থেকে আমাদের শেখার মত অনেক কিছু আছে। বিশেষ করে যারা মিডিয়ার সাথে জড়িত। নায়ক নায়িকাদের ফেম সৃষ্টি হতে যেমন সময় লাগে না, তেমনি তা ভেঙ্গেও যেতে পারে যে কোন সময়। তাই প্রতিটি পদক্ষেপ ভেবে চিন্তে বুঝে শুনে না নিলে চোখের পলকে বদলে যেতে পারে অবস্থান। আমরা যে পেশায়ই থাকি না কেন সবার উচিৎ হবে আগে নিজের পরিবার আর আপন মানুষদের সাথে মজবুত সম্পর্ক গড়ে তোলা আর নিজেকে প্রতিদিন আরও গোছানো আরও পরিশ্রমী ও স্বাবলম্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

Leave a Reply