হাতে তজবি জায়নামাজ নিয়ে, টুপি মাথায় দিয়ে বাংলাদেশে হয়ে গেল ফ্যাশন শো! (ভিডিও)

বাংলাদেশে ফ্যাশন শো এর নামে যা চলছে তা বিশ্বের কোন দেশেই আজ পর্যন্ত হয় নি। অশ্লীলতাকে পাশ্চাত্যের প্রভাব বলে চালানোর বিচ্ছিন্ন ঘটনা গুলো নিয়ে বহুদিন ধরেই চলে আসছিল নানা সমালোচনা। সেইসব সমালোচনার আগুনে তেল দিতেই যেন ঢাকার নামী দামী একটি হোটেলের বল রুমে হয়ে গেল ধর্ম ফ্যাশন। জায়নামাজ, তজবি হাতে নিয়ে মডেলরা আসলেন। একজন তো একধাপ এগিয়ে দু হাত তুলে মোনাজাতই করা শুরু করে দিলেন। আমাদের দেশের ধর্ম প্রান মানুষদের বিশ্বাস আর ঐতিহ্যকে নিয়ে এমন ফাজলামি দেখে হতবাক সবাই। পাঞ্জাবি কিংবা হিজাব পড়া ফ্যাশন শো কে না হয় মেনেই নিলাম। কিন্তু জায়নামাজ নিয়ে, টুপি মাথায় দিয়ে, হাতে একটা তজবি নিয়ে স্টেজে ওঠাটা কি ১৬ কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষকে আঘাত করা নয়? আর মেয়েটিকেই বা লোক দেখানো মোনাজাত করতে বলার কি দরকার ছিল? আমরা কি জানিনা কিভাবে মোনাজাত করতে হয়? আজাকাল হিজাব আর তার সাথে ম্যাচিং ড্রেস, জুতা, স্কার্ফ এসব কেনার হিড়িক পড়ে গেছে তরুণীদের মাঝে। তারই ধারাবাহিকতায় ফ্যাশন হাউজ গুলোও এসব প্রডাক্ট বিক্রির জন্য নতুন নতুন মার্কেটিং কৌশল ব্যবহার করছে। আর এগুলো করতে গিয়ে তারা ভুলেই যাচ্ছে ঠিক বেঠিকের সংজ্ঞা।

শুধু ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের নয় খ্রিস্টান কিংবা হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসীদের প্রার্থনাকেও যদি এভাবে ফ্যাশন শোতে নিয়ে আসা হত তবেও ঠিক একই প্রতিক্রিয়া দেখাত বাংলার ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষ। কারন জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যেমন ধর্ম, পরিবার, দেশ এগুলোকে ব্যবহার করে ব্যবসা করা নিজেকে নিয়ে ব্যবসা করার সামিল।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে এ বিষয় নিয়ে সাধারণ ইউজারদের কমেন্ট পড়লেই বোঝা যায় ব্যাপারটাকে সহজ ভাবে নেন নি কেউ। ফ্যাশন শোটির ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা স্টুডিও লরেনজো তাদের দায় অস্বীকারের সাথে সাথে ইভেন্ট টিকে নিজেদের রুজি রোজগারের উপায় বলে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। যদিও সেটি সাধারণ মানুষের কাছে একদমই ধোপে টেকেনি।

SEE:  হিরো ৪২০ কে ঘিরে গরম দেহের দুই নরম নায়িকার ঝগড়া। সত্যতা স্বীকার করলেন নুসরাত ফারিয়া।

কারন সাধারণ মানুষ কি চায় তা দেখার সময়ই নেই এসব ইভেন্ট আয়োজকদের । মানুষের মন জয় করার চেয়ে এমন কিছু করতেই তারা বেশী আগ্রহী যাতে কোন আলোচনা বা সমালোচনার সৃষ্টি হয়। আর সহজেই যেন তাদের মিলে যায় পরিচিতি।

এসব লোক দেখান, বিতর্ক সৃষ্টি কারী ইভেন্ট এর থেকে উদ্ভাবনী মনোভাব নিয়ে নতুন কিছু করা সম্ভব হলেই ফ্যাশন শিল্পের এ দুর্দশা দূর হবে।

Leave a Reply